কোমর ব্যথা আজ শুধু একটি সাধারণ শারীরিক সমস্যা নয়, এটি বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ (GBD) গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রতিবন্ধিতার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে কোমর ব্যথা প্রথম সারিতে রয়েছে। প্রায় ৪৫% ক্ষেত্রে এটি কোমর ব্যথা এবং সায়াটিকার জন্য দায়ী। বয়স্কদের মধ্যে এটি কোমর ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ। কিন্তু এক্স-রে, সিটি-স্ক্যান বা এমআরআই দ্বারা রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করা কঠিন। ফ্যাসেট জয়েন্ট আর্থ্রোপ্যাথি/ব্যথা নির্ণয়ের জন্য গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হলো ডায়াগনস্টিক ফ্যাসেট জয়েন্ট ব্লক।
মেরুদণ্ডের ব্যথা, বিশেষ করে কোমর ব্যথা, একটি সাধারণ ও জটিল সমস্যা যা সারাজীবনে প্রায় ৪০% থেকে ৮০% সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে এবং এর পয়েন্ট প্রিভ্যালেন্স ১৪ থেকে ২০%। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক-চতুর্থাংশ প্রাপ্তবয়স্ক গত ৩ মাসে কোমর ব্যথার কথা জানিয়েছেন। এবং ১৯৯৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোমর ব্যথায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের পরিমাণ ৯০.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। অর্থাৎ, আগামী কয়েক দশকে কোমর ব্যথা আরও বড় স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। নগরায়ণ, দীর্ঘ সময় বসে কাজ, শারীরিক অনুশীলনের অভাব, স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ এবং বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে কোমর ব্যথার প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। কর্মজীবী মানুষ, গৃহিণী, শ্রমজীবী, এমনকি তরুণদের মধ্যেও এই সমস্যা এখন অত্যন্ত সাধারণ। অনেকের কাছে এটি সাময়িক অস্বস্তি হলেও, কারও কারও জন্য এটি দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা, কর্মক্ষমতা হ্রাস, মানসিক অবসাদ এবং জীবনমানের অবনতির কারণ।
এই বাস্তবতায় পেইন ফিজিশিয়ান বা ব্যথা বিশেষজ্ঞের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক পেইন মেডিসিন কেবল ব্যথা কমানোর চিকিৎসা নয়; এটি ব্যথার কারণ নির্ণয়, রোগীর সামগ্রিক কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার, জীবনমান উন্নয়ন এবং অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এড়ানোর একটি বৈজ্ঞানিক, সমন্বিত ও প্রমাণভিত্তিক শাখা।
কোমর ব্যথা কী এবং কেন হয়?
পাঁজরের নিচের অংশ থেকে নিতম্বের উপরের অংশ পর্যন্ত যে ব্যথা অনুভূত হয়, তাকে কোমর ব্যথা বা লো ব্যাক পেইন বলা হয়। এটি হালকা অস্বস্তি থেকে তীব্র, ছুরিকাঘাতের মতো ব্যথা পর্যন্ত হতে পারে। কখনও ব্যথা নিতম্ব, উরু বা পায়ে ছড়িয়ে পড়ে, যা স্নায়ু জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিতে পারে।
সময়ের ভিত্তিতে কোমর ব্যথাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
১. অ্যাকিউট লো ব্যাক পেইন: ৬ সপ্তাহের কম
২. সাব-অ্যাকিউট লো ব্যাক পেইন: ৬ থেকে ১২ সপ্তাহ
৩. ক্রনিক লো ব্যাক পেইন: ১২ সপ্তাহের বেশি
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ কোমর ব্যথার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো একক গাঠনিক কারণ চিহ্নিত করা যায় না। একে বলা হয় নন-স্পেসিফিক লো ব্যাক পেইন। অর্থাৎ, এক্স-রে বা এমআরআইতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকলেও রোগী ব্যথা অনুভব করতে পারেন। এটি বোঝায় যে ব্যথা শুধু গঠনগত সমস্যার ফল নয়; বরং এটি একটি জটিল জৈবিক, মানসিক ও সামাজিক প্রক্রিয়া।
কোমরব্যথারসাধারণকারণসমূহ –
- ডিস্কের অবক্ষয় বা হার্নিয়েশন
- ফ্যাসেট জয়েন্ট আর্থ্রোপ্যাথি
- স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্টের সমস্যা
- স্নায়ু চাপে ব্যথা (রেডিকুলোপ্যাথি)
- স্পাইনাল স্টেনোসিস
- অস্টিওপোরোটিক ফ্র্যাকচার
- মায়োফ্যাসিয়াল পেইন সিনড্রোম
- অঙ্গবিন্যাসের ত্রুটি
- স্থূলতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা
- পেশী বা লিগামেন্টের টান
তবে সবসময় গাঠনিক পরিবর্তনই ব্যথার কারণ নয়। অনেক মানুষের এমআরআইতে ডিস্ক বাল্জ বা ডেজেনারেশন থাকলেও তারা সম্পূর্ণ উপসর্গহীন। আবার অনেকের তীব্র ব্যথা থাকলেও ইমেজিংয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু নাও দেখা যেতে পারে।

কোমরব্যথায়বায়োপসাইকোসোশ্যালসমস্যা
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোমর ব্যথাকে এখন একটি বায়োপসাইকোসোশ্যাল অবস্থা হিসেবে দেখা হয়। অর্থাৎ, এর পেছনে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ও সামাজিক কারণও কাজ করে।
জৈবিককারণ
• পেশী দুর্বলতা
• ডিস্ক বা জয়েন্টের পরিবর্তন
• স্নায়ু প্রদাহ
• চলাচলের সীমাবদ্ধতা
মানসিককারণ
• উদ্বেগ
• বিষণ্নতা
• ব্যথা নিয়ে অতিরিক্ত ভয়
• দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
সামাজিককারণ
• কর্মক্ষেত্রের চাপ
• পারিবারিক দায়িত্ব
• আর্থিক অনিশ্চয়তা
• সামাজিক সহায়তার অভাব
এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে ব্যথাকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে। তাই কোমর ব্যথার সফল চিকিৎসার জন্য শুধুমাত্র ওষুধ বা একটি এক্স-রে রিপোর্ট যথেষ্ট নয়।
পেইনফিজিশিয়ানকে?
পেইন ফিজিশিয়ান হলেন এমন একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, যিনি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার নির্ণয়, মূল্যায়ন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তিনি ব্যথার উৎস শনাক্ত করেন, ব্যথার ধরন বিশ্লেষণ করেন এবং রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
তিনি অ্যানেস্থেসিয়া, ফিজিক্যাল মেডিসিন, নিউরোলজি, অর্থোপেডিকস বা সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়ে ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিনে দক্ষতা অর্জন করেন।
কোমরব্যথায়পেইনফিজিশিয়ানেরভূমিকা
১. সঠিকওনির্ভুলরোগনির্ণয়
কোমর ব্যথার চিকিৎসার মূল ভিত্তি হলো সঠিক কারণ নির্ণয়। সব কোমর ব্যথা এক নয়। কারও ব্যথা ডিস্কজনিত, কারও ফ্যাসেট জয়েন্ট, কারও স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্ট, আবার কারও স্নায়ু বা পেশী থেকে উদ্ভূত হতে পারে।
পেইন ফিজিশিয়ান রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা, নিউরোলজিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনে ইমেজিং ব্যবহার করে ব্যথার উৎস নির্ণয় করেন। অনেক ক্ষেত্রে ডায়াগনস্টিক নার্ভ ব্লক ব্যবহার করে ব্যথার সুনির্দিষ্ট উৎস নিশ্চিত করা হয়।
২. অপ্রয়োজনীয়পরীক্ষাওঅস্ত্রোপচারএড়ানো
গবেষণায় দেখা গেছে, কোমর ব্যথার প্রাথমিক পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয় এমআরআই প্রায়ই রোগীর উদ্বেগ বাড়ায় এবং অযথা সার্জারির দিকে ঠেলে দেয়। অধিকাংশ কোমর ব্যথা অস্ত্রোপচার ছাড়াই সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
পেইন ফিজিশিয়ান নির্ধারণ করেন কখন ইমেজিং প্রয়োজন, কখন কনজারভেটিভ চিকিৎসা যথেষ্ট, এবং কখন সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এর ফলে রোগী অপ্রয়োজনীয় খরচ, ঝুঁকি ও মানসিক চাপ থেকে রক্ষা পান।
৩. রোগীকেন্দ্রিকচিকিৎসাপরিকল্পনা
প্রতিটি রোগীর ব্যথা, জীবনযাপন, পেশা, মানসিক অবস্থা এবং শারীরিক সক্ষমতা আলাদা। তাই এক রোগীর চিকিৎসা অন্য রোগীর জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে।
পেইন ফিজিশিয়ান একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক পরিকল্পনা তৈরি করেন, যার মধ্যে থাকতে পারে:
• রোগ সম্পর্কে শিক্ষা
• ব্যথা ব্যবস্থাপনা কৌশল
• নির্দিষ্ট ব্যায়াম
• অঙ্গবিন্যাস সংশোধন
• ওজন নিয়ন্ত্রণ
• ঘুমের উন্নয়ন
• মানসিক সহায়তা
• প্রয়োজনে ওষুধ
৪. আধুনিকইন্টারভেনশনালপেইনম্যানেজমেন্ট
যখন সাধারণ চিকিৎসা পর্যাপ্ত ফল দেয় না, তখন পেইন ফিজিশিয়ান ইমেজ-গাইডেড ইন্টারভেনশনাল পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এগুলো ন্যূনতম আক্রমণাত্মক, নিরাপদ এবং কার্যকর।
বহুলব্যবহৃতপদ্ধতিসমূহ
-
- ট্রান্সফোরামিনাল এপিডুরাল ইনজেকশন
- সিলেক্টিভ নার্ভ রুট ব্লক
- এপিডুরাল স্টেরয়েড ইনজেকশন
- ফ্যাসেট জয়েন্ট ইনজেকশন/ মিডিয়াল ব্রাঞ্চ ব্লক
- স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্ট ইনজেকশন
- রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন (RFA)
- কডাল এপিডুরাল ইনজেকশন
- ট্রিগার পয়েন্ট ইনজেকশন
- এপিডুরাল অ্যাডহেসিওলাইসিস (পারকিউটেনিয়াস অ্যাডহেসিওলাইসিস
- স্পাইনাল এন্ডোস্কোপিক অ্যাডহেসিওলাইসিস);
- ইন্ট্রাডিস্কাল থেরাপি (পারকিউটেনিয়াস মাইক্রো-ডিসকেক্টমি/ডিস্ক ডিকম্প্রেশন, নিউক্লিওলাইসিস)
- ইমপ্লান্টেবল থেরাপি (স্পাইনাল কর্ড স্টিমুলেশন এবং ইন্ট্রাথেকাল মেডিসিন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সিস্টেম)
এসব পদ্ধতি সাধারণত সি–আর্মফ্লুরোস্কোপিবাআল্ট্রাসাউন্ডগাইডেন্সে করা হয়, যা নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা বাড়ায়।
রেডিওফ্রিকোয়েন্সিঅ্যাবলেশন: দীর্ঘমেয়াদিসমাধান
ফ্যাসেট জয়েন্ট বা স্যাক্রোইলিয়াক জয়েন্টজনিত দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথায় রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন অত্যন্ত কার্যকর। এতে নির্দিষ্ট স্নায়ুকে তাপের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়, ফলে ব্যথার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে না।
বহু গবেষণায় দেখা গেছে, নির্বাচিত রোগীদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে ৯ মাস থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ব্যথা উপশম এবং কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি সম্ভব।
দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা প্রতিরোধে ভূমিকা
অ্যাকিউট কোমর ব্যথা সময়মতো সঠিকভাবে চিকিৎসা না করলে তা ক্রনিক ব্যথায় পরিণত হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় স্নায়ুতন্ত্রে পরিবর্তন ঘটে, যাকে বলা হয় সেন্ট্রাল সেনসিটাইজেশন। এতে সামান্য উদ্দীপনাতেও তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে পেইন ফিজিশিয়ানের হস্তক্ষেপ এই জটিলতা প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
কখন পেইন ফিজিশিয়ানের শরণাপন্ন হওয়া উচিত?
• কোমর ব্যথা ৪-৬ সপ্তাহের বেশি থাকলে
• ব্যথা পায়ে ছড়ালে
• অবশভাব, ঝিনঝিনি বা দুর্বলতা থাকলে
• হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হলে
• বারবার ব্যথা ফিরে এলে
• ওষুধ বা ফিজিওথেরাপিতে উপকার না হলে
• অস্ত্রোপচারের আগে দ্বিতীয় মতামত চাইলে
• অস্ত্রোপচারের পরও ব্যথা থাকলে
গবেষণা কী বলছে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO), ২০২৩
দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলো সুপারিশ করেছে:
• রোগী শিক্ষা ও স্ব-পরিচর্যা
• নিয়মিত ব্যায়াম
• কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি
• নির্বাচিত ম্যানুয়াল থেরাপি
• সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ ব্যবহার
ল্যানসেট সিরিজ অন লো ব্যাকপেইন
• অপ্রয়োজনীয় ইমেজিং কমানো
• রোগীকে সক্রিয় রাখা
• বহুমাত্রিক পুনর্বাসন
• অপ্রয়োজনীয় ওপিওয়েড ব্যবহার পরিহার
ক্লিনিক্যাল ফলাফল
গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারভেনশনাল পেইন ম্যানেজমেন্টে:
• ব্যথা ৫০-৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে
• কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে
• কর্মস্থলে দ্রুত ফেরা সম্ভব হয়
• সার্জারির প্রয়োজন কমে যায়
রোগীরজন্যগুরুত্বপূর্ণবার্তা
কোমর ব্যথা মানেই দীর্ঘদিন বিছানায় বিশ্রাম নয়। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত সক্রিয়তা, সঠিক ব্যায়াম এবং দ্রুত মূল্যায়নই সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।
ব্যথাকে ভয় পাওয়া বা সম্পূর্ণ নড়াচড়া বন্ধ করে দেওয়া সমস্যা আরও বাড়াতে পারে। শরীর চলাচলের জন্য তৈরি। সঠিকভাবে নড়াচড়া করা ব্যথা কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়।
• দৈনন্দিন জীবনে প্রতিরোধের উপায়
• নিয়মিত ব্যায়াম করুন
• সঠিক ভঙ্গিতে বসুন ও দাঁড়ান
• দীর্ঘক্ষণ একভাবে বসে থাকবেন না
• ভারী জিনিস তুলতে হাঁটু ভাঁজ করুন
• ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
• ধূমপান পরিহার করুন
• পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
• মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
বাংলাদেশে পেইন মেডিসিনের ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশে পেইন মেডিসিন দ্রুত বিকাশমান একটি বিশেষায়িত শাখা। বর্তমান বাংলাদেশে ১০ এর অধিক আন্তর্জাতিক ডিগ্রির যেমন – এফআইপিপি, সিআইপিএস, ইডিপিএম সম্পন্ন করা ইন্টারভেনশনাল পেইন স্পেশালিস্ট রয়েছেন । এছাড়াও স্বল্পমেয়াদী কোর্স করে সারা বাংলাদেশে আরো অন্তত ৫০ থেকে ৭০ জন ডাক্তার নিয়মিত ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, ইমেজ-গাইডেড ইন্টারভেনশন এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের ফলে এখন দেশের রোগীরাও বিশ্বমানের ব্যথা চিকিৎসা পাচ্ছেন।
এটি শুধু ব্যথা কমায় না; এটি রোগীকে পুনরায় কর্মক্ষম করে, জীবনমান উন্নত করে এবং পরিবার ও সমাজে তার সক্রিয় ভূমিকা ফিরিয়ে আনে।
উপসংহার
কোমর ব্যথা একটি বহুমাত্রিক সমস্যা, যার সমাধানও হতে হবে সমন্বিত, বৈজ্ঞানিক এবং রোগীকেন্দ্রিক। পেইন ফিজিশিয়ান এই সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। তিনি ব্যথার কারণ নির্ণয় করেন, অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এড়াতে সাহায্য করেন, আধুনিক নন-সার্জিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা প্রদান করেন এবং রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনেন।
সঠিক সময়ে পেইন ফিজিশিয়ানের পরামর্শ নিলে অধিকাংশ কোমর ব্যথা অস্ত্রোপচার ছাড়াই সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই কোমর ব্যথাকে অবহেলা নয়, বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করুন। কারণ, সঠিক চিকিৎসা শুধু ব্যথা কমায় না, এটি আপনাকে ফিরিয়ে দেয় কর্মক্ষম, আত্মবিশ্বাসী এবং ব্যথামুক্ত জীবন।